বিয়ের মতামত জ্ঞাপনের অধিকার


বই: আদর্শ পরিবার  
আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ
শিরোনাম     
বিয়ের মতামত জ্ঞাপনের অধিকার
| বিয়ের পূর্বে মেয়েকে দেখে নেয়ার যে ব্যবস্থা ইসলামে করা হয়েছে, এতে এটাই
প্রমাণিত হয় যে, বিয়ের ব্যাপারে শরী'আতের নির্দিষ্ট সীমার মধ্য থেকে পুরুষের পক্ষে
স্ত্রী এবং মেয়ের পক্ষে স্বামীকে মনােনীত করার স্থায়ী অধিকার রয়েছে। আল্লাহ তা'আলা
পুরুষদের সম্বােধন করে বলেন,
{فانكحوا ما طاب لكم من النساء }
‘নারীদের মধ্য হতে তােমাদের পছন্দ মত তােমরা বিয়ে কর’ (নিসা ৩)।
অত্র আয়াতে আল্লাহ বলেন, রূপ-সৌন্দর্য, জ্ঞান-বুদ্ধি ও পারিবারিক ব্যবস্থাপনা ও
কল্যাণ ক্ষমতার দিক দিয়ে যে সব মেয়ে তােমাদের জন্য ভাল বিবেচিত, মনমত,
প্রেমময়ী, কল্যাণময়ী, সবগুণে গুণান্বিতা হবে তােমরা তাদের বিয়ে কর। মেয়েরও
অনুরূপ অধিকার রয়েছে স্বামী বাছাই করার। পিতা-মাতা বয়স্ক ছেলে-মেয়েকে কোথাও
বিয়ে করাতে বাধ্য করতে পারে না। বয়স্ক ছেলে-মেয়ের বিয়ে তাদের স্পষ্ট মতামত
ছাড়া সম্পন্ন হতেই পারে না।
عن أبي سلمة أن أبا هريرة حدثهم أن النبي ع قال لا ثئك الأيم
حتى تستامر ولا تنكح البكر حتى تستاذن قالوا يا رسول الله وكيف إذنها
قال أن تسكت
আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূল ¢ বলেছেন, ‘তালাকপ্রাপ্তা নারীর অথবা পূর্ণ
যুবতী নারীর স্পষ্ট অনুমতি ছাড়া বিয়ে দেয়া যাবে না। ছাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহ্র
রাসূল! তার অনুমতি কিভাবে বুঝা যাবে? রাসূল বললেন, (জিজ্ঞেসের সময়) তার
চুপ থাকাই অনুমতি' (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৩১২৬, বাংলা মিশকাত হা/২৯৯২, বিবাহ’ অধ্যায়,
‘ওয়ালী ও নারীর অনুমতি’ অনুচ্ছেদ)।
অন্য বর্ণনায় নবী ৫ বলেন, ‘তালাকপ্রাপ্তা নারী তার বিয়ের ব্যাপারে তার ওয়ালী
অপেক্ষা অধিক হকদার। যুবতী-কুমারী মেয়ের বিয়ের ব্যাপারে তার মত গ্রহণ করা
আবশ্যক। আর তার মতামত প্রকাশ হচ্ছে তার চুপ থাকা। অন্য বর্ণনায় রয়েছে,
‘যুবতী-কুমারী মেয়ের বিয়ের ব্যাপারে তার পিতাকে তার অনুমতি নিতে হবে। আর
তার অনুমতি হচ্ছে তার চুপ থাকা' (মুসলিম, মিশকাত হা/৩১২৭, বাংলা মিশকাত হা/২৯৯৩)।

Subscribe to receive free email updates:

0 Response to "বিয়ের মতামত জ্ঞাপনের অধিকার"

Post a Comment