আদর্শ স্ত্রী

বই আদর্শ পরিবার
আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ
শিরোনাম
আদর্শ স্ত্রী
একটা পরিবারকে আদর্শবান করার জন্য আদর্শবান স্ত্রী অপরিহার্য। পানির মধ্যে
চলাচল করলে পা ভিজবে না এটা যেমন অবাস্তব তেমন আদর্শবান স্ত্রী ছাড়া আদর্শ
পরিবারের কামনা করা অবাস্তব। যদিও হয় তবে তা খুব কম হবে। কুরআনে দুইজন
আদর্শ নারীর চরিত্র ও নমুনা পেশ করা হয়েছে। যে আদর্শের অনুসরণ করা ঈমানদার
নারীদের জন্য আবশ্যক। তার একজন হচ্ছেন ফেরাউনের স্ত্রী আছিয়া। ফেরাউন ছিল
স্বৈরাচারী, সীমালঙ্ঘনকারী, নির্যাতনকারী, আল্লাহদ্রোহী, লৌহ শলাকাধারী প্রচণ্ড
প্রতাপশালী সম্রাট। পৃথিবীর ইতিহাসে সে ছিল আল্লাহ্র প্রকাশ্য দুশমন। অথচ তার স্ত্রী
ছিলেন আল্লাহর দ্বীনের পূর্ণ ও শক্তিশালী ঈমানদার। ফেরাউন তাঁর উপর চাপ সৃষ্টি
করেছিল তাকে প্রতিপালক হিসাবে মেনে নেওয়ার জন্য। কিন্তু তিনি তা অস্বীকার
করেছিলেন এবং বলেছিলেন, আমার প্রতিপালক, আপনার প্রতিপালক এবং সকল বস্তুর
প্রতিপালক হচ্ছেন আল্লাহ্। তখন ফেরাউন ভীষণ ক্রুদ্ধ হয়ে তাঁকে খুব কঠিন শাস্তি
দিয়েছিল। ফেরআউন তার চার হাত-পায়ে পেরেক মেরে বুকের উপর পাথর চাঁপিয়ে
শাস্তি দিত। তিনি এই আল্লাহ্ বিরােধী কঠোর মেজাযী সম্রাটের আধিপত্য থেকে নিষ্কৃতি
লাভের জন্য কাতর কণ্ঠে দো'আ করতে থাকতেন। তিনি অমানবিক শাস্তির শিকার
| হওয়া সত্ত্বেও পূর্ণ ঈমানের অধিকারী হয়ে সদাসর্বদা আল্লাহকে ডাকতেন। এটা
| হওয়া সত্ত্বেও পূর্ণ ঈমানের অধিকারী হয়ে সদাসর্বদা আল্লাহকে ডাকতেন। এটা
নারীদের জন্য অনুকরণীয় এক বিরল আদর্শ।
| এই আল্লাহ্ বিশ্বাসী মহিলাকে দুনিয়ার সব মহিলার জন্য দৃষ্টান্তস্বরূপ আল্লাহ্
তা'আলা পেশ করেছেন।
| এই আল্লাহ্ বিশ্বাসী মহিলাকে দুনিয়ার সব মহিলার জন্য দৃষ্টান্তস্বরূপ আল্লাহ্
তা'আলা পেশ করেছেন।
وضرب الله مثلا الذين آمنوا امرأت فرعون إذ قالت رب ابن لي
عندك بيتا في الجنة وتجني من فرعون وعمله ونجيني من القوم
عندك بيتا في الجنة وتجني من فرعون وعمله ونجيني من القوم
{all)
‘আল্লাহ্ তা'আলা ঈমানদার নারী-পুরুষের জন্য ফেরাউনের স্ত্রীকে দৃষ্টান্তস্বরূপ
পেশ করেছেন। ফেরাউনের স্ত্রী আছিয়া দো'আ করে বললেন, হে আল্লাহ্! আমার জন্য
তােমার কাছে জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ কর এবং ফেরাউন ও তার কার্যকলাপ থেকে
আমাকে মুক্তি দাও। মুক্তি দাও আমাকে অত্যাচারী লােকদের নির্যাতন থেকে (তাহরীম ১১)।
‘আল্লাহ্ তা'আলা ঈমানদার নারী-পুরুষের জন্য ফেরাউনের স্ত্রীকে দৃষ্টান্তস্বরূপ
পেশ করেছেন। ফেরাউনের স্ত্রী আছিয়া দো'আ করে বললেন, হে আল্লাহ্! আমার জন্য
তােমার কাছে জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ কর এবং ফেরাউন ও তার কার্যকলাপ থেকে
আমাকে মুক্তি দাও। মুক্তি দাও আমাকে অত্যাচারী লােকদের নির্যাতন থেকে (তাহরীম ১১)।
| মুমিন নারী-পুরুষের অবস্থা কি হতে পারে তা দেখার ও তার সাথে সঙ্গতি রক্ষা
করার উদ্দেশ্যে আল্লাহ তা'আলা ফেরাউনের স্ত্রীকে দৃষ্টান্ত হিসাবে পেশ করেছেন।
প্রতাপশালী ফেরাউনের কঠোর শাস্তির মুখােমুখি হয়েও আছিয়া চরম ঈমানের পরিচয়
দিয়েছেন, যা মুমিন নারী-পুরুষের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি চূড়ান্ত ঈমানের
পরিচয় দিয়ে আল্লাহর নিকট ঘর বানানাের আবেদন করেছেন এবং ফেরাউন ও তার।
অত্যাচারী সম্প্রদায় হতে বাঁচতে চেয়েছেন।
করার উদ্দেশ্যে আল্লাহ তা'আলা ফেরাউনের স্ত্রীকে দৃষ্টান্ত হিসাবে পেশ করেছেন।
প্রতাপশালী ফেরাউনের কঠোর শাস্তির মুখােমুখি হয়েও আছিয়া চরম ঈমানের পরিচয়
দিয়েছেন, যা মুমিন নারী-পুরুষের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি চূড়ান্ত ঈমানের
পরিচয় দিয়ে আল্লাহর নিকট ঘর বানানাের আবেদন করেছেন এবং ফেরাউন ও তার।
অত্যাচারী সম্প্রদায় হতে বাঁচতে চেয়েছেন।
দ্বিতীয় দৃষ্টান্ত হচ্ছে ঈসা (আঃ)-এর মা মরিয়মের আদর্শ। তিনি ছিলেন পবিত্রতা,
সততা ও আল্লাহ ভীরুতার জ্বলন্ত প্রতীক। আল্লাহর বাণী,
সততা ও আল্লাহ ভীরুতার জ্বলন্ত প্রতীক। আল্লাহর বাণী,
ومريم ابنت عمران التي أحصنت فرجها فنفخنا فيه من روحنا
وصدقت بكلمات ربها وكتبه وكانت من القانتين}
وصدقت بكلمات ربها وكتبه وكانت من القانتين}
“আর ইমরান কন্যা মরিয়ম, যিনি তার যৌনাঙ্গের পূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ করেছেন।
তখন আমি তার মধ্যে আমার থেকে রূহ ফুকে দিয়েছি। তিনি তার প্রতিপালকের সব
কথা ও তাঁর কেতাবসমূহের সত্যতা মেনে নিয়েছেন। বস্তুত তিনি ছিলেন নিয়মিত
তখন আমি তার মধ্যে আমার থেকে রূহ ফুকে দিয়েছি। তিনি তার প্রতিপালকের সব
কথা ও তাঁর কেতাবসমূহের সত্যতা মেনে নিয়েছেন। বস্তুত তিনি ছিলেন নিয়মিত
ইবাদতকারিণী, আল্লাহর আদেশ পালনকারী বিনয়ী লােকদের অন্তর্ভুক্ত’ (তাহরীম ১২)।
অত্র আয়াতে মারিয়ামের চূড়ান্ত ঈমানের তিনটি পরিচয় দেয়অ হয়েছে- (১) যৌনাঙ্গের
পূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণকারিণী। যেনা তাকে স্পর্শ করেনি। (২) তিনি তার প্রতিপালকের সব
কথা ও তার কেতাব সমূহের প্রতি অটল বিশ্বাসী ছিলেন। (৩) নিয়মিত ইবাদতে ছিলেন
অতুলনীয়।
অত্র আয়াতে মারিয়ামের চূড়ান্ত ঈমানের তিনটি পরিচয় দেয়অ হয়েছে- (১) যৌনাঙ্গের
পূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণকারিণী। যেনা তাকে স্পর্শ করেনি। (২) তিনি তার প্রতিপালকের সব
কথা ও তার কেতাব সমূহের প্রতি অটল বিশ্বাসী ছিলেন। (৩) নিয়মিত ইবাদতে ছিলেন
অতুলনীয়।
আদর্শবান নারী-পুরুষের জন্য এই আয়াতদ্বয় এক বাস্তব উদাহরণ।
عن أبي موسى رضي الله عنه قال قال رسول اللير ع گل من
الرجال كثير ولم يكمل من النساء إلآ آسية امرأة فرعون ومريم بنت
عمران وإن فضل عاﺉشة على النساء كفضل الثريد على سائر الطعام-
الرجال كثير ولم يكمل من النساء إلآ آسية امرأة فرعون ومريم بنت
عمران وإن فضل عاﺉشة على النساء كفضل الثريد على سائر الطعام-
আবু মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসূল & বলেছেন, পুরুষদের মধ্যে অনেকেই পূর্ণ
ঈমানদার হয়েছেন কিন্তু নারীদের মধ্যে ইমরানের কন্যা মারইয়াম এবং ফেরাউনের স্ত্রী
আছিয়া ব্যতীত আর কেউ পূর্ণ ঈমানদার হতে পারেনি। তিনি আরাে বলেছেন, সব
নারীর উপর আয়েশার মর্যাদা এমন যেমন সব রকমের খাদ্য সামগ্রির উপর ছারীদের
মর্যাদা' (বুখারী হা/৩৪১১, মুসলিম হা/৪৪৫৯, মিশকাত হা/৫৭২৪, বাংলা মিশকাত হা/৫৪৭৯)। রুটি
টুকরা টুকরা করে গােশতের ঝােলের মধ্যে ভিজিয়ে দেওয়াকে ছারীদ বলে।
ঈমানদার হয়েছেন কিন্তু নারীদের মধ্যে ইমরানের কন্যা মারইয়াম এবং ফেরাউনের স্ত্রী
আছিয়া ব্যতীত আর কেউ পূর্ণ ঈমানদার হতে পারেনি। তিনি আরাে বলেছেন, সব
নারীর উপর আয়েশার মর্যাদা এমন যেমন সব রকমের খাদ্য সামগ্রির উপর ছারীদের
মর্যাদা' (বুখারী হা/৩৪১১, মুসলিম হা/৪৪৫৯, মিশকাত হা/৫৭২৪, বাংলা মিশকাত হা/৫৪৭৯)। রুটি
টুকরা টুকরা করে গােশতের ঝােলের মধ্যে ভিজিয়ে দেওয়াকে ছারীদ বলে।
عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه عن النبي ، قال خير نسائها
مريم وخير نساﺅها خديجة
مريم وخير نساﺅها خديجة
আলী (রাঃ) বলেন, আমি রাসূল ৫ কে বলতে শুনেছি, মারইয়াম বিনতু ইমরান
হচ্ছেন সমস্ত নারীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ। আর খাদীজা বিনতু খুওয়াইলিদ হচ্ছেন বর্তমান
দুনিয়ার সমস্ত নারী সমাজের মধ্যে শ্রেষ্ঠ' (বুখারী হা/৩৮১৫, মুসলিম হা/৪৪৫৮, মিশকাত হা/৬১৭৫,
বাংলা মিশকাত হা/৫৯২৪)।
হচ্ছেন সমস্ত নারীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ। আর খাদীজা বিনতু খুওয়াইলিদ হচ্ছেন বর্তমান
দুনিয়ার সমস্ত নারী সমাজের মধ্যে শ্রেষ্ঠ' (বুখারী হা/৩৮১৫, মুসলিম হা/৪৪৫৮, মিশকাত হা/৬১৭৫,
বাংলা মিশকাত হা/৫৯২৪)।
عن أنس رضي الله عنه أن النبي ع قال حسبك من نساء العالمين
ريم ابنة عمران وخديجة بنت خويلد وفاطمة بنت محمد وآسية امرأة
فرعون
ريم ابنة عمران وخديجة بنت خويلد وفاطمة بنت محمد وآسية امرأة
فرعون
আনাস (রাঃ) বলেন, নবী বলেছেন, সারা বিশ্বের মহিলাদের মধ্য থেকে এই
চারজন মহিলার ফযীলত সম্পর্কে তােমার অবগত হওয়া যথেষ্ট। তারা হচ্ছেন ইমরানের
মেয়ে মারইয়াম, খুওয়াইলেদের মেয়ে খাদীজা, মুহাম্মদ ৫ এর মেয়ে ফাতিমা এবং
ফেরাউনের স্ত্রী আছিয়া’ (তিরমিযী হা/৩৮৭৮, মিশকাত হা/৬১৮, বাংলা মিশকাত হা/৫৯৩০)।
চারজন মহিলার ফযীলত সম্পর্কে তােমার অবগত হওয়া যথেষ্ট। তারা হচ্ছেন ইমরানের
মেয়ে মারইয়াম, খুওয়াইলেদের মেয়ে খাদীজা, মুহাম্মদ ৫ এর মেয়ে ফাতিমা এবং
ফেরাউনের স্ত্রী আছিয়া’ (তিরমিযী হা/৩৮৭৮, মিশকাত হা/৬১৮, বাংলা মিশকাত হা/৫৯৩০)।
অত্র হাদীছে রাসূল & এই চারজন নারীর মর্যাদা সম্পর্কে জানতে বলেছেন। কারণ
কোন নারী বা পুরুষ প্রকৃতপক্ষে আদৰ্শৰ্বান ও আল্লাহ ভীরু হ’তে চাইলে এসব নারীদের
ইতিহাস অবগত হওয়া অপরিহার্য। কোন নারী যদি তার সতীত্ব যথাযথভাবে রক্ষা
করতে চায়, কঠিন দুর্বিসহ অবস্থায় ধৈর্যধারণ করতে চায় এবং পরিবারকে আদর্শবান
করতে চায়, তাহলে তার জন্য মারইয়াম ও আছিয়ার ঈমানী আদর্শ অবগত হওয়া
যরূরী।
কোন নারী বা পুরুষ প্রকৃতপক্ষে আদৰ্শৰ্বান ও আল্লাহ ভীরু হ’তে চাইলে এসব নারীদের
ইতিহাস অবগত হওয়া অপরিহার্য। কোন নারী যদি তার সতীত্ব যথাযথভাবে রক্ষা
করতে চায়, কঠিন দুর্বিসহ অবস্থায় ধৈর্যধারণ করতে চায় এবং পরিবারকে আদর্শবান
করতে চায়, তাহলে তার জন্য মারইয়াম ও আছিয়ার ঈমানী আদর্শ অবগত হওয়া
যরূরী।
قال قال رسول اللي ع ألا أخبركم من أهل الجنة النبي
عن ابن عباس
في الجنة والصديق في الجنة والشهيد في الجنة والمولود في الجنة
والرجل يزور أخاه في ناحية البصر لا يزوره إلا الله عز وجل ونسائكم
من أهل الجنة الودود المولود العؤود على زوجها التي إذا غضب جاءت
حتى تضع يدها في يد زوجها وتقول لا أذوق غمضا حتى ترضی۔
عن ابن عباس
في الجنة والصديق في الجنة والشهيد في الجنة والمولود في الجنة
والرجل يزور أخاه في ناحية البصر لا يزوره إلا الله عز وجل ونسائكم
من أهل الجنة الودود المولود العؤود على زوجها التي إذا غضب جاءت
حتى تضع يدها في يد زوجها وتقول لا أذوق غمضا حتى ترضی۔
ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, রাসূল & বলেছেন, আমি কি তােমাদেরকে জান্নাতের
অধিবাসী পুরুষদের সংবাদ দিব না? নবী জান্নাতী, সত্যবাদী জান্নাতী, শহীদ জান্নাতী,
নবজাতক শিশু জান্নাতী, একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে দ্বীনি ভাইয়ের সাক্ষাৎকারী
জান্নাতী। আর ঐসব স্ত্রীগণ হচ্ছে জান্নাতের অধিবাসী যারা বন্ধুভাবাপন্ন, স্নেহপরায়ণ,
বেশি বেশি সন্তান প্রসবকারিণী, স্বামীর প্রতি বারংবার গভীর প্রেম বিনিময়কারিণী ।
কোন সময় স্বামী রাগান্বিত হলে, স্বামীর হাতে হাত রেখে বলে, আমি আপনার সন্তুষ্টি
অর্জন না করা পর্যন্ত কোন খাদ্যের স্বাদ আস্বাদন করবাে না' (সিলসিলা ছহীহা হা/১৮৭)।
অধিবাসী পুরুষদের সংবাদ দিব না? নবী জান্নাতী, সত্যবাদী জান্নাতী, শহীদ জান্নাতী,
নবজাতক শিশু জান্নাতী, একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে দ্বীনি ভাইয়ের সাক্ষাৎকারী
জান্নাতী। আর ঐসব স্ত্রীগণ হচ্ছে জান্নাতের অধিবাসী যারা বন্ধুভাবাপন্ন, স্নেহপরায়ণ,
বেশি বেশি সন্তান প্রসবকারিণী, স্বামীর প্রতি বারংবার গভীর প্রেম বিনিময়কারিণী ।
কোন সময় স্বামী রাগান্বিত হলে, স্বামীর হাতে হাত রেখে বলে, আমি আপনার সন্তুষ্টি
অর্জন না করা পর্যন্ত কোন খাদ্যের স্বাদ আস্বাদন করবাে না' (সিলসিলা ছহীহা হা/১৮৭)।
অত্র হাদীছে এমন নারীর আদর্শ প্রকাশ হয়েছে যারা জান্নাতী। হাদীছে চারটি
গুণের অধিকারিণী নারীকে জান্নাতী বলা হয়েছে। (১) স্বামীকে খুব বেশি ভালবাসা, (২)।
ঘন ঘন সন্তান প্রসব করা (৩) স্বামীর সাথে বারংবার গভীর প্রেম বিনিময়ে অনুরাগী
গুণের অধিকারিণী নারীকে জান্নাতী বলা হয়েছে। (১) স্বামীকে খুব বেশি ভালবাসা, (২)।
ঘন ঘন সন্তান প্রসব করা (৩) স্বামীর সাথে বারংবার গভীর প্রেম বিনিময়ে অনুরাগী
| হওয়া (৪) স্বামী কোন কারণবশত রাগান্বিত হলে স্বামীকে রাযী-খুশী না করা পর্যন্ত
খাদ্য না খাওয়ার দৃঢ় পরিকল্পনা করা। এগুলি আদর্শ নারীর পরিচয়।
عن أبي هريرة قال قال رسول الله ع ليس للنساء وسط الطريق
আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূল & বলেছেন, নারীরা রাস্তার মধ্য দিয়ে চলাচল
করবে না’ (সিলসিলা ছহীহা হা/৮৫৬)।
করবে না’ (সিলসিলা ছহীহা হা/৮৫৬)।
এখানে নারীদের রাস্তায় চলার আদর্শ বর্ণনা করা হয়েছে। আদর্শ নারীর পরিচয়
হচ্ছে তারা রাস্তার এক পাশ দিয়ে চলাচল করবে। বর্তমান সমাজে এই হাদীছের সম্পূর্ণ
বিরােধিতা করা হচ্ছে।
হচ্ছে তারা রাস্তার এক পাশ দিয়ে চলাচল করবে। বর্তমান সমাজে এই হাদীছের সম্পূর্ণ
বিরােধিতা করা হচ্ছে।
عن سعد بن أبي وقاص قال قال رسول الل ع من سعادة المرأة
الصالحة والمسكن الواسع والجار الصالح والمرگ الهنئ وأربع من
الشقاء الجار السوء والمرأة السوء والمركب السوء والمسكن الضيق۔
الصالحة والمسكن الواسع والجار الصالح والمرگ الهنئ وأربع من
الشقاء الجار السوء والمرأة السوء والمركب السوء والمسكن الضيق۔
সা’দ ইবনু আবু ওয়াক্কাছ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, সৌভাগ্যবান
হওয়ার চারটি জিনিস রয়েছে- (১) সতী-সাধ্বী স্ত্রী (২) প্রসস্থ বাসস্থান (৩) সৎ ও
উপযুক্ত প্রতিবেশী (৪) আরামদায়ক যানবাহন। আর দুর্ভাগ্যবান হওয়ার চারটি জিনিস
রয়েছে- (১) খারাপ প্রতিবেশী (২) মন্দ আচরণের স্ত্রী (৩) বিপদজনক যানবাহন (৪)
সংকীর্ণ বাসস্থল’ (সিলসিলা ছহীহা হা/২৮৩, ১৯০৩)। এখানে এমন ব্যক্তিকে সৌভাগ্যবান বলা
হয়েছে, যার স্ত্রী সতী-সাধ্বী পবিত্র চরিত্রের অধিকারিণী। যার স্ত্রী আদর্শহীন তাকে
দূর্ভাগ্যবান বলা হয়েছে।
হওয়ার চারটি জিনিস রয়েছে- (১) সতী-সাধ্বী স্ত্রী (২) প্রসস্থ বাসস্থান (৩) সৎ ও
উপযুক্ত প্রতিবেশী (৪) আরামদায়ক যানবাহন। আর দুর্ভাগ্যবান হওয়ার চারটি জিনিস
রয়েছে- (১) খারাপ প্রতিবেশী (২) মন্দ আচরণের স্ত্রী (৩) বিপদজনক যানবাহন (৪)
সংকীর্ণ বাসস্থল’ (সিলসিলা ছহীহা হা/২৮৩, ১৯০৩)। এখানে এমন ব্যক্তিকে সৌভাগ্যবান বলা
হয়েছে, যার স্ত্রী সতী-সাধ্বী পবিত্র চরিত্রের অধিকারিণী। যার স্ত্রী আদর্শহীন তাকে
দূর্ভাগ্যবান বলা হয়েছে।
عن أبي هريرة قال قال رسول الله ع أي النساء خير قال التي تسه
إذا نظر إليها وتطيعه إذا أمر ولا تخالفه في تفسيها ومالها بما يكره
إذا نظر إليها وتطيعه إذا أمر ولا تخالفه في تفسيها ومالها بما يكره
আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, একদা রাসূল ¢ কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল কে
| সবচেয়ে উত্তম নারী? রাসূল ৫ বললেন, ‘যে স্ত্রী তার স্বামীকে খুশী করতে পারে, স্বামী
| সবচেয়ে উত্তম নারী? রাসূল ৫ বললেন, ‘যে স্ত্রী তার স্বামীকে খুশী করতে পারে, স্বামী
যখন তার দিকে লক্ষ্য করে। স্বামী যখন তাকে আদেশ করে, তখন স্বামীর আদেশ
যথাযথ মান্য করে। আর তার নিজের ব্যাপারে এবং নিজের সম্পদের ব্যাপারে স্বামী যা
যথাযথ মান্য করে। আর তার নিজের ব্যাপারে এবং নিজের সম্পদের ব্যাপারে স্বামী যা
অপসন্দ করে সে তা করে না’ (সিলসিলা ছহীহা হা/১৮৩৮/১৯১৬)। এখানে আদৰ্শৰ্বান নারীর
| তিনটি গুণ বর্ণনা করা হয়েছে (১) এমন হাসি মুখে থাকা, স্বামী দৃষ্টি দিলেই যেন খুশী
| তিনটি গুণ বর্ণনা করা হয়েছে (১) এমন হাসি মুখে থাকা, স্বামী দৃষ্টি দিলেই যেন খুশী
হয়। (২) সদাসর্বদা স্বামীর আদেশ পালনে প্রস্তুত থাকা (৩) নিজের ব্যাপারে এবং
নিজের অর্থের ব্যাপারে স্বামীর ইচ্ছার বিরােধিতা না করা।
নিজের অর্থের ব্যাপারে স্বামীর ইচ্ছার বিরােধিতা না করা।
عن حصين بن محصن عن عممة له يقال إسمها أسماء أنها دخلت
على رسول الله ع لبعض الحاجة فقضى حاجتها فقال لها رسول الله
وأذات زوج أئت قالت نعم قال كيف أنت له قالت ما ألوه إلا ما عجزت
عنه فقال رسول الله ع أنظري أين أنت منه فإنه جنثك ونارك-
على رسول الله ع لبعض الحاجة فقضى حاجتها فقال لها رسول الله
وأذات زوج أئت قالت نعم قال كيف أنت له قالت ما ألوه إلا ما عجزت
عنه فقال رسول الله ع أنظري أين أنت منه فإنه جنثك ونارك-
হুছায়েন ইবনে মেহছান তার ফুফু আসমা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, তার ফুফু
একদা তার কোন প্রয়ােজনের জন্য রাসূল ৫ এর কাছে গেলেন। রাসূল তার প্রয়ােজন
পূর্ণ করলেন। অতঃপর রাসূল ¢ বললেন, “তােমার স্বামী আছে কি? সে বলল, হ্যা
আছে। রাসূল ৫ বললেন, তুমি তার কেমন স্ত্রী? সে বলল, আমি তার খিদমত করতে
কম করি না, তবে আমি তার ব্যাপারে অপারগ হই। রাসূল ¢ তাকে বললেন, তুমি যা
বলছ, সে ব্যাপারে চিন্তা কর, তুমি তার থেকে কোথায় যাবে? নিশ্চয়ই সে তােমার
জান্নাত ও জাহান্নাম’ (সিলসিলা ছহীহা হা/২৬১২, ১৯৩৪)।
একদা তার কোন প্রয়ােজনের জন্য রাসূল ৫ এর কাছে গেলেন। রাসূল তার প্রয়ােজন
পূর্ণ করলেন। অতঃপর রাসূল ¢ বললেন, “তােমার স্বামী আছে কি? সে বলল, হ্যা
আছে। রাসূল ৫ বললেন, তুমি তার কেমন স্ত্রী? সে বলল, আমি তার খিদমত করতে
কম করি না, তবে আমি তার ব্যাপারে অপারগ হই। রাসূল ¢ তাকে বললেন, তুমি যা
বলছ, সে ব্যাপারে চিন্তা কর, তুমি তার থেকে কোথায় যাবে? নিশ্চয়ই সে তােমার
জান্নাত ও জাহান্নাম’ (সিলসিলা ছহীহা হা/২৬১২, ১৯৩৪)।
অত্র হাদীছে স্ত্রীদেরকে তিনটি বিষয়ে বলা হয়েছে।
(১) স্ত্রীকে স্বামীর ইচ্ছানুযায়ী প্রিয় হওয়ার চেষ্টা করতে হবে।
(২) স্বামীর খিদমত করার জন্য যথাযথ চেষ্টা করতে হবে।
| (৩) কোন সময় তার নিকট অপারগতা প্রকাশ করা যাবে না। কারণ স্বামী হচ্ছে।
জাহান্নাম ও জান্নাতের মাধ্যম। একমাত্র আদর্শবান স্ত্রী এগুলি পালন করে থাকে।
(১) স্ত্রীকে স্বামীর ইচ্ছানুযায়ী প্রিয় হওয়ার চেষ্টা করতে হবে।
(২) স্বামীর খিদমত করার জন্য যথাযথ চেষ্টা করতে হবে।
| (৩) কোন সময় তার নিকট অপারগতা প্রকাশ করা যাবে না। কারণ স্বামী হচ্ছে।
জাহান্নাম ও জান্নাতের মাধ্যম। একমাত্র আদর্শবান স্ত্রী এগুলি পালন করে থাকে।
قال قال رسول الله ع خير نسائكم الودود المولود المواتية المواسينية-
রাসূল ৫ বলেন, “তােমাদের স্ত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম হচ্ছে এমন নারী যারা
স্নেহপরায়না, ঘনঘন সন্তান প্রসবকারিণী, সমব্যথী, সান্তনা প্রদানকারিণী, সহযােগিনী’
(সিলসিলা ছহীহা হা/১৮৪৯, ১৯৫২)।
স্নেহপরায়না, ঘনঘন সন্তান প্রসবকারিণী, সমব্যথী, সান্তনা প্রদানকারিণী, সহযােগিনী’
(সিলসিলা ছহীহা হা/১৮৪৯, ১৯৫২)।
| এখানে আদর্শ নারীর চারটি গুণ বর্ণনা করা হয়েছে- ১. স্বামীর প্রতি বন্ধুভাবাপন্ন
হওয়া, ২. ঘন ঘন সন্তান প্রসব করা, ৩। স্বামীর দুঃখ-বেদনায় সমব্যথী হওয়া, ৪।
স্বামীর কাজে সহযােগিতা করা।
হওয়া, ২. ঘন ঘন সন্তান প্রসব করা, ৩। স্বামীর দুঃখ-বেদনায় সমব্যথী হওয়া, ৪।
স্বামীর কাজে সহযােগিতা করা।
قال رسول اللع عليكم بالإبگار فإن أعذب أقواها وأثق أرحاما
وأرضى بالير-
وأرضى بالير-
রাসূল (সঃ) বলেন, “তােমরা কুমারীদের বিবাহ করা। কেননা তাদের মুখ বেশি মিষ্টি,
তারা অধিক গর্ভধারিণী এবং অল্পতে সন্তুষ্ট’ (সিলসিলা ছহীহা হা/৬২৩, ১৯৫৭)। হাদীছে।
আদর্শবান নারীর তিনটি গুণ বলা হয়েছে- ১. মিষ্টি মুখ হওয়া অর্থাৎ কোন সময়
রাগবশত গরম হয়ে স্বামীর সাথে কথা না বলা। ২. বেশী বেশী সন্তান দেয়া, ৩. অল্পে
তুষ্ট হওয়া অর্থাৎ স্বামীর যে কোন জিনিসের প্রতি আপত্তি পেশ না করা।
তারা অধিক গর্ভধারিণী এবং অল্পতে সন্তুষ্ট’ (সিলসিলা ছহীহা হা/৬২৩, ১৯৫৭)। হাদীছে।
আদর্শবান নারীর তিনটি গুণ বলা হয়েছে- ১. মিষ্টি মুখ হওয়া অর্থাৎ কোন সময়
রাগবশত গরম হয়ে স্বামীর সাথে কথা না বলা। ২. বেশী বেশী সন্তান দেয়া, ৩. অল্পে
তুষ্ট হওয়া অর্থাৎ স্বামীর যে কোন জিনিসের প্রতি আপত্তি পেশ না করা।
عن ثوبان قال لو علمنا أي المال خير فتتخذه فقال أفضلة لسان
ذاكر وقلب شاكر وزوجة مؤمنة تعينه على إيمان؛
ذاكر وقلب شاكر وزوجة مؤمنة تعينه على إيمان؛
ছাওবান (রাঃ) বলেন, আমরা যদি জানতে পারতাম কোন সম্পদ সবচেয়ে উত্তম,
তবে তা সঞ্চয় করতাম। রাসূল বললেন, “তােমাদের জন্য শ্রেষ্ঠ সম্পদ হচ্ছে,
সবসময় আল্লাহকে স্মরণকারী জিহ্বা, শুকরিয়া আদায়কারী অন্তর এবং এমন ঈমানদার
স্ত্রী, যে তার স্বামীকে দ্বীনের ব্যাপারে সাহায্য করে' (তিরমিযী হা/৩০৯৪, মিশকাত হা/২২৭৭,
বাংলা মিশকাত হা/২১৭০)।
তবে তা সঞ্চয় করতাম। রাসূল বললেন, “তােমাদের জন্য শ্রেষ্ঠ সম্পদ হচ্ছে,
সবসময় আল্লাহকে স্মরণকারী জিহ্বা, শুকরিয়া আদায়কারী অন্তর এবং এমন ঈমানদার
স্ত্রী, যে তার স্বামীকে দ্বীনের ব্যাপারে সাহায্য করে' (তিরমিযী হা/৩০৯৪, মিশকাত হা/২২৭৭,
বাংলা মিশকাত হা/২১৭০)।
অত্র হাদীছে তিনটি জিনিসকে শ্রেষ্ঠ সম্পদ বলা হয়েছে।
(১) আল্লাহর যিকিরকারী জিহ্বা। যার জিহ্বা সবসময় আল্লাহকে স্মরণ
(১) আল্লাহর যিকিরকারী জিহ্বা। যার জিহ্বা সবসময় আল্লাহকে স্মরণ
করে, তাসবীহ পাঠ করে ও ক্ষমা চায়। তার জন্য তার জিহ্বা শ্রেষ্ঠ
সম্পদ।
(২) যার অন্তর আল্লাহর অনুগ্রহের প্রতি শুকরিয়া আদায় করে, তার জন্য
(২) যার অন্তর আল্লাহর অনুগ্রহের প্রতি শুকরিয়া আদায় করে, তার জন্য
তার অন্তর শ্রেষ্ঠ সম্পদ।
(৩) ঐ স্ত্রী শ্রেষ্ঠ সম্পদ, যে তার স্বামীকে দ্বীনের ব্যাপারে সব ধরনের
(৩) ঐ স্ত্রী শ্রেষ্ঠ সম্পদ, যে তার স্বামীকে দ্বীনের ব্যাপারে সব ধরনের
সাহায্য করতে পারে।
عن أنس قال قال رسول الله ع إذا صلت خمسها وصامت شهرها
وأحصنت فرجها وأطاعت بعلها فلتدخل من أي أبواب الجنة شاءت۔
وأحصنت فرجها وأطاعت بعلها فلتدخل من أي أبواب الجنة شاءت۔
আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূল (সঃ) বলেছেন, স্ত্রীলােক যখন তার প্রতি নির্ধারিত পাঁচ
ওয়াক্ত ছালাত আদায় করে, রামাযান মাসের ছিয়াম পালন করে, নিজের লজ্জাস্থানের
হেফাযত করে ও স্বামীর অনুগত থাকে, তখন সে জান্নাতের যে কোন দরজা দিয়ে ইচ্ছা
প্রবেশ করতে পারবে' (আবু নুআইম, মিশকাত হা/৩২৫৪, বাংলা মিশকাত হা/৩১১৫, হাদীছ ছহীহ)।
অত্র হাদীছে আদর্শবান নারীর চারটি গুণ বর্ণনা করা হয়েছে।
(১) পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত আদায় করা আদর্শ নারীর একটি বড় গুণ। এগুণ ছাড়া
ওয়াক্ত ছালাত আদায় করে, রামাযান মাসের ছিয়াম পালন করে, নিজের লজ্জাস্থানের
হেফাযত করে ও স্বামীর অনুগত থাকে, তখন সে জান্নাতের যে কোন দরজা দিয়ে ইচ্ছা
প্রবেশ করতে পারবে' (আবু নুআইম, মিশকাত হা/৩২৫৪, বাংলা মিশকাত হা/৩১১৫, হাদীছ ছহীহ)।
অত্র হাদীছে আদর্শবান নারীর চারটি গুণ বর্ণনা করা হয়েছে।
(১) পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত আদায় করা আদর্শ নারীর একটি বড় গুণ। এগুণ ছাড়া
কোন নারী আদর্শবান হতে পারে না।
(২) রামাযান মাসের ছিয়াম পালন করা আদর্শ নারীর দ্বিতীয় বড় গুণ।
(৩) আনুগত্য ও সদ্ব্যবহারের মাধ্যমেই একজন নারী আদর্শবান হতে পারে। কোন
(২) রামাযান মাসের ছিয়াম পালন করা আদর্শ নারীর দ্বিতীয় বড় গুণ।
(৩) আনুগত্য ও সদ্ব্যবহারের মাধ্যমেই একজন নারী আদর্শবান হতে পারে। কোন
নারী আনুগত্য ছাড়া আদর্শের দাবী করতে পারে না।
(৪) আদর্শবান হওয়ার জন্য লজ্জাস্থানের হেফাযত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ, যে
গুণের মাধ্যমে একজন নারীর ইহকাল ও পরকালের মান-সম্মান নির্ভর করে। একজন
ব্যভিচারিণী নারী বিন্দুমাত্র আদর্শের দাবী করতে পারে না।
(৪) আদর্শবান হওয়ার জন্য লজ্জাস্থানের হেফাযত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ, যে
গুণের মাধ্যমে একজন নারীর ইহকাল ও পরকালের মান-সম্মান নির্ভর করে। একজন
ব্যভিচারিণী নারী বিন্দুমাত্র আদর্শের দাবী করতে পারে না।
عن عبد الله بن عمرو أن رسول الله ع قال الدنيا متاع وخير متاع
الثنيا المرأة الصالحة
الثنيا المرأة الصالحة
আব্দুল্লাহ্ ইবনু আমর (রাঃ) বলেন, রাসূল & বলেছেন, “গােটা দুনিয়াটাই হচ্ছে
সম্পদ। আর দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ সম্পদ হচ্ছে সতীসাধবী নারী' (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত
হা/৩০৮৩, বাংলা মিশকাত হা/২৯৪৯)। অত্র হাদীছে একমাত্র আদর্শবান স্ত্রীকেই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ
সম্পদ বলা হয়েছে। নবী ¢ এ কথা বলে নারীদের মান-সম্মান এত বেশি করেছেন এবং
জাতির কাছে তাদেরকে এত মূল্যবান ও গ্রহণযােগ্য করে পেশ করেছেন, যা পৃথিবীর
কোন জাতি নারীদের কোন দিন দিতে পারেনি।
সম্পদ। আর দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ সম্পদ হচ্ছে সতীসাধবী নারী' (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত
হা/৩০৮৩, বাংলা মিশকাত হা/২৯৪৯)। অত্র হাদীছে একমাত্র আদর্শবান স্ত্রীকেই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ
সম্পদ বলা হয়েছে। নবী ¢ এ কথা বলে নারীদের মান-সম্মান এত বেশি করেছেন এবং
জাতির কাছে তাদেরকে এত মূল্যবান ও গ্রহণযােগ্য করে পেশ করেছেন, যা পৃথিবীর
কোন জাতি নারীদের কোন দিন দিতে পারেনি।
আল্লাহ্ তা'আলা আদর্শবান স্ত্রীর গুণ উল্লেখ করে বলেন,
{فالصالحات قانات محافظات الغيب بما حفظ الله }
‘অতএব যারা সতী-সাধবী স্ত্রীলােক, তারা তাদের স্বামীদের ব্যাপারে আল্লাহর
হুকুম পালনকারী এবং স্বামীদের অনুপস্থিতিতে গােপনীয় বিষয়গুলির হেফাযতকারী হয়ে
থাকে। কেননা আল্লাহ নিজেই তার হেফাযত করেন' (নিসা ৩৪)।
হুকুম পালনকারী এবং স্বামীদের অনুপস্থিতিতে গােপনীয় বিষয়গুলির হেফাযতকারী হয়ে
থাকে। কেননা আল্লাহ নিজেই তার হেফাযত করেন' (নিসা ৩৪)।
আল্লাহ তা'আলা এখানে সতী-সাধবী আদর্শবান স্ত্রীর পরিচয় দিয়েছেন যারা
স্বামীর আনুগত্য করে এবং স্বামীর অনুপস্থিতিতে নিজেকে হেফাযত করে।
স্বামীর আনুগত্য করে এবং স্বামীর অনুপস্থিতিতে নিজেকে হেফাযত করে।
আল্লাহ্ তা'আলা অন্যত্র বলেন,
{عسى ربه إن طلقكن أن يبدلة أزواجا خيرا منگن مسلمات
مؤمنات قانات شابات عايدات ساحات ثبات وأبگارا}
مؤمنات قانات شابات عايدات ساحات ثبات وأبگارا}
‘নবী যদি আপনাদের সবাইকে তালাক দিয়ে দেন, তাহ'লে অসম্ভব নয় যে,
আল্লাহ নবী কে তােমাদের পরিবর্তে এমন সব স্ত্রী দিবেন যারা তােমাদের চেয়ে উত্তম
হবে। যারা হবে সত্যিকার মুসলিম, আনুগত্যশীল, তাওবাকারী, ইবাদতকারী, ছিয়াম
পালনকারী, কুমারী কিংবা অকুমারী' (তাহরীম ৫)।
আল্লাহ নবী কে তােমাদের পরিবর্তে এমন সব স্ত্রী দিবেন যারা তােমাদের চেয়ে উত্তম
হবে। যারা হবে সত্যিকার মুসলিম, আনুগত্যশীল, তাওবাকারী, ইবাদতকারী, ছিয়াম
পালনকারী, কুমারী কিংবা অকুমারী' (তাহরীম ৫)।
এখানে আদর্শবান স্ত্রীর ছয়টি গুণ পেশ করা হয়েছে।
(১) মুসলিম মুসলিম শব্দটির অর্থ হচ্ছে কার্যত আল্লাহর হুকুম ও আইন-বিধান
পালনকারী। তারা এমন স্ত্রী হবে যারা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ পালন করতে সর্বদা
প্রস্তুত থাকবে।
পালনকারী। তারা এমন স্ত্রী হবে যারা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ পালন করতে সর্বদা
প্রস্তুত থাকবে।
(২) মুমিন’ মুমিন বলতে এমন লােককে বুঝায় যে অকৃত্রিম নিষ্ঠা সহকারে ঈমান
গ্রহণ করেছে। অতএব মুমিন স্ত্রীর বিশেষত্ব হচ্ছে এই যে, সত্য হৃদয়ে আল্লাহ্, তাঁর
রাসূল এবং তার দ্বীনের প্রতি ঈমান রাখে। আর কার্যত নিজের চরিত্র, অভ্যাস-আদত,
আচার-আচরণ ও ব্যবহারে আল্লাহর দ্বীন অনুসরণ করে চলে।
গ্রহণ করেছে। অতএব মুমিন স্ত্রীর বিশেষত্ব হচ্ছে এই যে, সত্য হৃদয়ে আল্লাহ্, তাঁর
রাসূল এবং তার দ্বীনের প্রতি ঈমান রাখে। আর কার্যত নিজের চরিত্র, অভ্যাস-আদত,
আচার-আচরণ ও ব্যবহারে আল্লাহর দ্বীন অনুসরণ করে চলে।
(৩) ‘আনুগত্যশীল এই শব্দের দু'টি অর্থ এবং দু'টি অর্থই এখানে গ্রহণীয়। প্রথম
তারা এমন স্ত্রী হবে যারা আল্লাহ এবং তার রাসূলের অনুগত ও আদেশ পালনকারী
হবে। দ্বিতীয়তঃ তারা হবে নিজের স্বামীর অনুগত।
তারা এমন স্ত্রী হবে যারা আল্লাহ এবং তার রাসূলের অনুগত ও আদেশ পালনকারী
হবে। দ্বিতীয়তঃ তারা হবে নিজের স্বামীর অনুগত।
(৪) তাওবাকারী’ তারা এমন স্ত্রী হবে যারা সবসময়ই আল্লাহর কাছে নিজের
গুনাহ ও অপরাধের জন্য ক্ষমা চায়। নিজের দুর্বলতাও পদস্খলনের অনুভূতি সবসময়
দংশন করে এবং সেজন্য লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়। এ ধরনের স্ত্রীর মধ্যে কোন সময়ই
অহংকার, গৌরব, অহমিকতা, উন্মাসিকতা ও আত্মম্ভরিতার ভাবধারা জাগতে পারে না।
এমন স্ত্রী স্বভাবতই নম্র প্রকৃতির এবং বিনীত মনােভাবের হয়।
গুনাহ ও অপরাধের জন্য ক্ষমা চায়। নিজের দুর্বলতাও পদস্খলনের অনুভূতি সবসময়
দংশন করে এবং সেজন্য লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়। এ ধরনের স্ত্রীর মধ্যে কোন সময়ই
অহংকার, গৌরব, অহমিকতা, উন্মাসিকতা ও আত্মম্ভরিতার ভাবধারা জাগতে পারে না।
এমন স্ত্রী স্বভাবতই নম্র প্রকৃতির এবং বিনীত মনােভাবের হয়।
(৫) ইবাদতকারী একজন নারীর সর্বোত্তম হওয়ার ব্যাপারে এই জিনিসের খুব
বেশি প্রভাব লক্ষ করা যায়। এমন স্ত্রী ইবাদত করার কারণে আল্লাহর নির্ধারিত
বেশি প্রভাব লক্ষ করা যায়। এমন স্ত্রী ইবাদত করার কারণে আল্লাহর নির্ধারিত
সীমাসমূহ পুরাপুরি রক্ষা করে চলে। এমন স্ত্রী কখনােই আল্লাহরই এবাদত করা থেকে
মুখ ফিরাবে না- এ আশা তার প্রতি খুব বেশি করা যায়।
মুখ ফিরাবে না- এ আশা তার প্রতি খুব বেশি করা যায়।
| (৬) ছিয়াম পালনকারী’ ফরয বা নফল ছিয়াম পালন করা অতীতের নবী ও সৎ
লােকদের কাজ। ছিয়াম পালন করলে প্রবৃত্তি দমন হয়। ছিয়াম পালনে অভ্যস্থ স্ত্রীর
কাছে সবধরনের কল্যাণের আশা করা যায়। এ যাবত আদর্শ স্ত্রীর যেসব গুণাবলী পেশ
করা হ’ল, সেগুলি পরিপূর্ণভাবে অর্জন করার জন্য সচেষ্ট থাকা প্রত্যেক নারীর কর্তব্য।
আল্লাহ তুমি তাওফীক দান কর।
লােকদের কাজ। ছিয়াম পালন করলে প্রবৃত্তি দমন হয়। ছিয়াম পালনে অভ্যস্থ স্ত্রীর
কাছে সবধরনের কল্যাণের আশা করা যায়। এ যাবত আদর্শ স্ত্রীর যেসব গুণাবলী পেশ
করা হ’ল, সেগুলি পরিপূর্ণভাবে অর্জন করার জন্য সচেষ্ট থাকা প্রত্যেক নারীর কর্তব্য।
আল্লাহ তুমি তাওফীক দান কর।
আরো পড়ুন =>
0 Response to "আদর্শ স্ত্রী "
Post a Comment