আদর্শ পরিবার



আদর্শ পরিবার
আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ     


ভূমিকা
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা এক আল্লাহর জন্য। আমরা তার প্রশংসা করি। আমরা
তাঁর নিকট সাহায্য চাই। আমরা তাঁর নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আল্লাহর নিকট
আমাদের আত্মার অনিষ্ট হতে ও আমাদের কর্মের অন্যায় হতে আশ্রয় চাই। আল্লাহ
যাকে সঠিক পথ দেখান তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না। আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট
করেন তাকে কেউ সঠিক পথ দেখাতে পারে না। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ
ছাড়া প্রকৃত কোন মা'বুদ নেই, তিনি এক, তার কোন শরীক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য
দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।
| ‘কে বড় ক্ষতিগ্রস্ত বইটি প্রকাশের পর পরই ‘আদর্শ পরিবার' বইটি প্রকাশের
সিদ্ধান্ত নেই। বিভিন্ন ব্যস্ততার দরুণ ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও দ্রুত বের করতে পারিনি।
বিলম্বে হলেও ২০০৪ সালের রামাযানকে সামনে রেখে বইটি প্রকাশিত হল-
ফালিল্লাহিল হামদ। বিভিন্ন সভা-সমিতি ও জুম'আ মসজিদে পরিবার সম্পর্কে বক্তব্য
পেশ করলেই এক শ্রেণীর মানুষ এ বিষয়ে একটি বই প্রকাশের জন্য বিশেষভাবে
অনুরােধ করে। পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছ ভিত্তিক এমন একটি বই সমাজের জন্য
খুবই প্রয়ােজন মনে করে শেষ পর্যন্ত লিখতে বাধ্য হলাম। মুসলমানের জন্য রাসূল
এর পক্ষ থেকে সবচেয়ে উত্তম আদর্শ থাকা সত্ত্বেও মানুষ বিজাতীয় আদর্শকে সাদরে
গ্রহণ করছে এবং তাদের নােংরা আদর্শ অনুযায়ী পরিবারকে গড়ে তােলা গৌরবজনক
মনে করছে। এমন মানুষগুলিকে রাসূলের ৫ আদর্শে ফিরিয়ে আনা এই বইয়ের মূখ্য
উদ্দেশ্য।
| বইটিতে একটি পরিবারের সকল সদস্য কিভাবে রাসূল এর পরিবারের মত
সর্বযুগের শ্রেষ্ঠ পরিবার হতে পারে তার যথাযথ নমুনা পেশ করা হয়েছে। পারিবারিক
জীবন সম্পর্কে আলােচনা করার পাশাপাশি ছেলে-মেয়েকে আদর্শবান করার নমুনা
যথাসাধ্য পেশ করা হয়েছে। বইটি পাঠ করে মুসলমানগণ উপকৃত হলে আমাদের শ্রম
সার্থক মনে করব।
বইটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, আমি জেনে শুনে কোন যঈফ হাদীছের আশ্রয় গ্রহণ
করিনি এবং অপ্রয়ােজনীয় কোন কথা কিংবা কোন কেচ্ছা কাহিনীও পেশ করিনি। কোন
মাযহাব বা কোন ব্যক্তির মতামত পেশ করার প্রয়ােজন মনে করিনি।
| যারা বইটি প্রকাশে বিভিন্নভাবে সহযােগিতা করেছেন, আমি তাদের শুকরিয়া
আদায় করি। আল্লাহ তাদের জাযায়ে খায়ের দান করুন। আমার চেষ্টা-প্রচেষ্টার
প্রতিদান দয়াময় আল্লাহ্র নিকট খালেছ অন্তরে একান্তভাবে ইহকাল ও পরকালে কামনা
করি। সেই সাথে মুদ্রণ ত্রুটির জন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী। পরবর্তী সংস্করণে সুধী
পাঠকদের সুপরামর্শ প্রাপ্তির আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আল্লাহ তা'আলা আমদেরকে পবিত্র
কুরআন ও ছহীহ হাদীছ অনুযায়ী জীবন যাপনের তাওফীক দিন-আমীন!
॥ বিনীত লেখক
নারী ও পুরুষের আদর্শ
নারী ও পুরুষ উভয়কেই যেমন সৃষ্টিকুলের মধ্যে বিশেষ সম্মানিত করে সৃষ্টি করা
হয়েছে, তেমনি ইসলামের দৃষ্টিতে নারী-পুরুষের মধ্যে কিছু বিশেষ গুণের বাস্তবতা
কামনা করা হয়েছে। এই গুণগুলিই তাদেরকে আদর্শবান হিসাবে তৈরি করতে পারে
এবং একমাত্র এই আদর্শের অধিকারী নারী-পুরুষই ইসলামের দেওয়া মর্যাদা রক্ষা
করতে পারে। নারী-পুরুষের পারস্পরিক সম্পর্ক ও তাদের পারিবারিক জীবনের বিবরণ
পেশ করার পূর্বে তাদের বিশেষ বিশেষ গুণ সংক্ষিপ্তভাবে পেশ করা হ’ল। আল্লাহ্
তা'আলা সূরা আহযাবের ৩৫-৩৬ নং আয়াতে আদর্শ নারী-পুরুষের জন্য ১২টি গুণ
| পেশ করেছেন। আমরা এইসব গুণাবলী সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিয়ে বইয়ের প্রাথমিক
আলােচনা আরম্ভ করলাম। আশা করি, নর-নারী সকল পাঠক এসব গুণাবলী অর্জন করে
আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে ধন্য হবে। আল্লাহ তুমি কবুল কর-আমীন!
{إن المسلمين والمسلمات والمؤمنين والمؤمنات والقانتين والقانيات
والصادقين والصاقات والصابرين والصابرات والخاشعين والاشعات
والمصدقين والمثصقات والصايمين والصامات والحافظين فروجهم
والحافظات والذاكرين الله كثيرا والذاكرات أعد الله لهم مغفرة وأجرا
عظيما - وما كان لمؤمن ولا مؤمنة إذا قضى الله ورسوله أمرا أن يكون
الهم الخيرة من أمرهم ومن يعص الله ورسوله فقد ضل ضلالا مينا}
| ‘আল্লাহর অনুগত পুরুষ ও স্ত্রীলােক, ঈমানদার পুরুষ ও স্ত্রী লােক, আল্লাহর দিকে
মনােযােগকারী পুরুষ ও স্ত্রী লােক, সত্য ন্যায়বাদী পুরুষ ও স্ত্রী লােক, সত্যের পথে
দৃঢ়তা প্রদর্শনকারী পুরুষ ও স্ত্রীলােক, আল্লাহর নিকট বিনীত- পুরুষ ও স্ত্রীলােক,
দানশীল পুরুষ ও স্ত্রীলােক, ছিয়াম পালনকারী পুরুষ ও স্ত্রীলােক, লজ্জাস্থানের
হেফাযতকারী পুরুষ ও স্ত্রীলােক, আল্লাহকে অধিক মাত্রায় স্মরণকারী পুরুষ ও স্ত্রীলােক,
আল্লাহ্ এদের জন্য স্বীয় ক্ষমা ও বিরাট পুরষ্কার প্রস্তুত করে রেখেছেন। কোন ঈমানদার
পুরুষ ও স্ত্রীলােকের জন্য আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল যখন কোন বিষয়ে চূড়ান্তভাবে
| ফায়ছালা করেন, তখন সে ব্যাপারে তার বিপরীত কিছু করার কোন অধিকার নেই।
আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করে সে সুস্পষ্ট ভ্রান্ত' (আল-আহযাব
৩৫-৩৬)।
অত্র আয়াতে নারী পুরুষের জন্য ১২টি শিক্ষণীয়, গ্রহণীয় ও আবশ্য পালনীয়
আদর্শ রয়েছে। যা ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করা হল।
প্রথম আদর্শ ও মুসলিম পুরুষ ও মুসলিম স্ত্রীলােক। মুসলিম’ শব্দের আভিধানিক
অর্থ আত্মসমর্পনকারী। আর পারিভাষিক অর্থে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আইন
পালনকারী।
عن عبيد اللير بن عمرو رضي الله عنهما عن البي ، قال المسلم من
سلم المسلمون من لساني․ ويډير
আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) বলেন, রাসূল বলেছেন, ‘পূর্ণ মুসলিম সে পুরুষ বা
নারী যার যবান ও হাত হতে অন্যান্য পুরুষ বা নারী নিরাপদে থাকে' (বুখারী, মুসলিম,
মিশকাত হা/৬, বাংলা মিশকাত হা/৫)।
হাদীছের অর্থ হচ্ছে শরী'আতের হুকুম ব্যতীত যে কোন মানুষকে যে কোন
রকমের কষ্ট দেওয়া ইসলাম বিরােধী কাজ। এতে মানুষ পূর্ণ মুসলিম থাকে না। অন্য
বর্ণনায় রয়েছে, মুসলিম সে ব্যক্তি যে, নিজের জন্য যেটা কল্যাণকর মনে করে অন্যের
জন্যও সেটা কল্যাণকর মনে করে” (আহমাদ, মিশকাত হা/৫১৭১)। মানুষকে কষ্ট দেওয়া
সদাচরণ বিরােধী কাজ, যার পরিণাম জাহান্নাম।
عن جبير بن مطعم أخبره أنه سمع النبي ، يقول لا يدخل الجنة قاطع
জুবায়ের ইবনু মুতঈম (রাঃ) বলেন, নবী বলেছেন, সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে
প্রবেশ করবে না' (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৪৯২২, বাংলা মিশকাত হা/৪৭০৫)। কেননা
সম্পর্ক ছিন্ন করাই হচ্ছে আদর্শ বিনষ্ট করার মূল। প্রকৃত মুসলমান না থাকার
পরিচায়ক।
দ্বিতীয় আদর্শ ও মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী। মুমিন’ শব্দের অর্থ হচ্ছে ঈমানদার।
পরিভাষায় ঈমান হচ্ছে কুরআনের উপস্থাপিত বিষয়সমূহকে সত্য বলে মেনে নেওয়া।
ব্যবহারিকভাবে ঈমান হচ্ছে কতগুলি গুণের অধিকারী হওয়া।
عن أنس قال قال النبي ، لا يؤمن أحدكم حتى أكون أحب إليه من
والده وولده والناس أجمعين
আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, “তােমাদের কেউ পূর্ণ মুমিন হতে
পারে না, যে পর্যন্ত আমি তার নিকট তার পিতা ও তার সন্তান এবং অন্যান্য সকল
মানুষ থেকে প্রিয়তম না হব' (আমার আদর্শ হবে তার নিকটে সবার চেয়ে প্রিয়তম।
সর্বক্ষেত্রে আমার আদর্শ খুঁজে বের করা মুমিনের জন্য যরূরী। আর এটাই ঈমানের
পরিচয়) (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৭)।
عن أنس بن مالك قال ما طنائبي الله إلا قال لا إيمان لمن لا
أمانة له ولا دين لمن لا عهد له
আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূল আমাদেরকে এরূপ উপদেশ খুব কমই দিয়েছেন
যাতে একথাগুলি বলেননি যে, 'যার আমানতদারী নেই তার ঈমান নেই এবং যার
অঙ্গীকারের মূল্য নেই তার দ্বীন-ধর্ম নেই' (আহমাদ ১১৯৩৫, মিশকাত হা/৩৫, বাংলা মিশকাত
হা/৩১)। হাদীছের অর্থ এই যে, যার মধ্যে আমানতদারী নেই সে পূর্ণ মুমিন নয় এবং যে
ওয়াদা ঠিক রাখে না সেও পূর্ণ মুমিন নয়।
عن أبي أمامة أن رجلا سأل رسول الله ما الإيمان قال إذا سرثك
حسنثك وساعث سنثك فأنت مؤمن
আবু উমামা বাহিলী (রাঃ) বলেন, এক ব্যক্তি রাসূল ৫ কে জিজ্ঞেস করল, হে
আল্লাহ্র রাসূল ! ঈমানের পরিচয় কি? রাসূল ৫ বললেন, 'যখন তােমার সৎ কাজ
তােমাকে আনন্দ দিবে এবং তােমার অসৎ কাজ তােমাকে পীড়া দিবে তখনই তুমি
প্রকৃত মুমিন' (আহমাদ হা/২১১৪৫, সিলাসলা ছহীহা হা/৯৩৯)।
একদা রাসূল ! বললেন, সবচেয়ে উত্তম ঈমান হচ্ছে- গুনাহর কাজ থেকে বিরত
থাকা (সিলসিলা হা/৯৫৪)।
অন্য এক বর্ণনায় রাসূল ৫ বলেন, একজন মুমিন আর একজনের জন্য আয়না
স্বরূপ’ (সিলসিলা ছহীহ হা/১১১৬)।
| অর্থাৎ একজন অপর জনের গুনাহ বুঝতে পারলে তাকে গুনাহ থেকে বাঁচানাের
জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করবে। এটা মুমিন নারী-পুরুষের আর্দশের পরিচয়।



তৃতীয় আদর্শঃ আল্লাহর দিকে মনােনিবেশকারী পুরুষ ও স্ত্রীলােক। এমন পুরুষ ও
স্ত্রীলােকের কথা আল্লাহ এখানে বলেছেন, যাদের অন্তর ও দেহের সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ
সর্বদা আলাহর বিধান পালনে মশগুল। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন,
{أمن هو قانت آناء الليل ساجدا وقائما يحذر الآخرة ويرجو رحمة
{43)
“যে ব্যক্তি রাত্রিকালে সিজদার মাধ্যমে অথবা দাঁড়িয়ে ইবাদত করে, পরকালের
ভয় রাখে ও তার পালনকর্তার রহমতের প্রত্যাশা করে (যুমার ৯)।
আল্লাহ তা'আলা এখানে নারী-পুরুষের একটি বড় গুণ উল্লেখ করেছেন। আর তা
হচ্ছে রাত জেগে ইবাদত করা, যা নবী-রাসূল ও বড় ইবাদতগুজার লােকদের আদর্শ।
আল্লাহ্ অন্যত্র বলেন,
وله من في السماوات والأرض ك له قانون}
‘আকাশ ও যমীনে যা কিছু আছে সবাই তার একনিষ্ঠভাবে ইবাদত করে' (রুম ২৬)।
আল্লাহ তা'আলা অন্যত্র বলেন,
وقوموا إله قانتين
‘আর আল্লাহর সামনে একান্ত আদবের সাথে ইবাদতের জন্য দাঁড়িয়ে যাও’ (বাকারা ২৩৮)।
আদর্শ নারী-পুরুষের জন্য রাতের ইবাদত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
চতুর্থ আদর্শঃ সত্য ও ন্যায়-নিষ্ঠ পুরুষ ও স্ত্রীলােক। সততা নারী-পুরুষের জন্য
একটি প্রশংসনীয় আদর্শ। সততা এমন ঈমানের পরিচায়ক যার পরিণাম জান্নাত।
عليكم بالصدق فإن
عن عبد الله بن مسعوير قال قال رسول الله
الصدق يهدي إلى البر وإن البر يهدي إلى الجنة وما يزال الرجل يصدق
ويتحرى الصدق حتى يكتب عند اللير صديقا وإن الفجور يهدي إلى النار
وما يزال الرجل يكذب ويتحرى الكذب حتى يكتب عند الل؛ گابا وفي
رواية مسلم إن الصدق بر وإن البر يهدي إلى الجنة إن الكذب فجور
وإن الفجور يهدي إلى النار
আবদুল্লাহ্ ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেন, রাসূল বলেছেন, “তােমরা সত্যকে
আঁকড়িয়ে ধর। কেননা সত্য মানুষকে নেকীর দিকে নিয়ে যায়। আর নেকী জান্নাতের
দিকে নিয়ে যায়। যে ব্যক্তি সর্বদা সত্য কথা বলে এবং সত্য বলতে চেষ্টা করে,
আল্লাহর কাছে তাকে সত্যবাদী বলে লিপিবদ্ধ করা হয়। আর তােমরা মিথ্যা থেকে
বেঁচে থাক। কেননা মিথ্যা পাপের পথে নিয়ে যায় এবং পাপ জাহান্নামের দিকে নিয়ে
যায়। যে ব্যক্তি সর্বদা মিথ্যা কথা বলে এবং মিথ্যা বলতে চেষ্টা করে, আল্লাহর নিকট
তাকে মিথ্যাবাদী বলে লিপিবদ্ধ করা হয়' (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৪৮২৪)।
| অন্য বর্ণনায় আছে, সত্যবাদিতা একটি নেকীর কাজ। আর নেকী জান্নাতের পথে
| নিয়ে যায়। আর মিথ্যা হ’ল মহাপাপ। পাপ জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়' (মুসলিম,
মিশকাত হা/৪৮২৪, বাংলা মিশকাত হা/৪৬১৩)।
পঞ্চম আদর্শঃ সত্যের পথে দৃঢ়তা প্রদর্শনকারী পুরুষ ও স্ত্রীলােক। ছবর’-এর
আভিধানিক অর্থ হচ্ছে নিজেকে বেঁধে রাখা, ধৈর্য ধারণ করা। এখানে এমন পুরুষ ও
নারীকে বােঝানাে হয়েছে যারা আল্লাহর দ্বীন পালন ও তাঁর ইবাদত করতে গিয়ে সকল
প্রকার দুঃখ কষ্ট অকাতরে সহ্যকরে অটল হয়ে থাকেন। শত বাধার মােকাবিলা করে
দ্বীনের উপর অবিচল থাকে এবং কোনক্রমেই আদর্শচ্যুত হয় না। আল্লাহ তা'আলা
বলেন,
سلام عليكم بما صبرتم فنعم عقبى الدار }
(ফেরেশতারা বলবে) তােমাদের ধৈর্যের কারণে তােমাদের উপর শান্তি বর্ষিত
হােক। এবং তােমাদের এই পরিণাম গৃহ কতই না চমৎকার’ (রা'দ ২৪)।
আল্লাহ্ তা'আলা অন্যত্র বলেন,
{وجزاهم بما صبروا جنة وحريرا }
‘আর তাদের ধৈর্যের কারণে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত ও রেশমী পােশাক
(দাহার ১২)।
আল্লাহ তা'আলা অন্যত্র বলেন,
واصبر نفسك مع الذين يدعون ربهم بالغداة والعشبي}
আর আপনি নিজেকে ঐসবলােকের সাথে আঁকড়িয়ে ধরুন যারা তাদের
প্রতিপালককে সকাল-সন্ধ্যায় ডাকে' (কাহাফ ২৮)
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
فاصبر على ما يقولون وسبح بحمد ربك قبل طلوع الشمس وقبل
غروبها
| ‘তারা যেসব দুঃখজনক ও কষ্টদায়ক কথা বলছে সেসব কথাকে অকাতরে সহ্য
করুন এবং সূর্যোদয়ের পূর্বে ও অস্ত যাওয়ার পরে আপনার প্রতিপালকের প্রশংসা
সহকারে তাসবীহ পাঠ করুন’ (ত্ব-হা ১৩০)।
আয়াতগুলিতে বিপদের সময়ে ধৈর্য ধারণ করতে এবং সকাল-সন্ধ্যা আল্লাহকে
ডাকার জন্য বলা হয়েছে, যা মুমিন নারী-পুরুষের আদর্শ।
ষষ্ঠ আদর্শ ও আল্লাহর নিকট বিনীত-নম্র পুরুষ ও স্ত্রীলােক। আল্লাহ তা'আলা
এখানে এমন নারী-পুরুষের আদর্শ বর্ণনা করেছেন, যারা অন্তর-মন ও অঙ্গ-প্রতঙ্গ
সবকিছু দিয়ে বিনীতভাবে আল্লাহর ইবাদত করে। এখানে এমন এক শব্দ উল্লেখিত
হয়েছে যার অর্থ- প্রশান্তি, স্থিতি, প্রীতি, শ্রদ্ধা, ভক্তি, বিনয়, ভয় মিশ্রিত ভালবাসা এবং
আল্লাহর প্রতি আগ্রহ, উৎসাহ। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন,
{قد أفلح المؤمنون الذين هم في صلاتهم خاشعون}
মুমিনগণ সফলকাম হয়েছে, যারা বিনয়-নম্রভাবে ভয়-ভীতি নিয়ে নিজেদের
ছালাত আদায় করে’ (মুমিন ১-২)।
আল্লাহ্ তা'আলা অন্যত্র বলেন,
ويخرون للأذقان يبكون ويزيدهم خشوعا
‘তারা ক্রন্দন করতে করতে নতমস্তকে ভূমিতে লুটিয়ে পড়ে এবং তাদের বিনয়-
নম্রভাব আরাে বৃদ্ধি পায়’ (ইসরা ১০৯)।
আয়াতের অর্থ হচ্ছে, ভয়-ভীতি নিয়ে ছালাত আদায় করা এবং পাপ করলে
মাটিতে লুটিয়ে পড়া মুমিন নর-নারীর আদর্শ।
সপ্তম আদর্শ ও দানশীল পুরুষ ও স্ত্রীলােক। আল্লাহ তা'আলা এখানে এমন নারী-
পুরুষের আদর্শ পেশ করেছেন, যারা গরীব-দুঃখী ও অভাবগ্রস্তদের প্রতি অন্তরে দয়া
অনুভব করে, উদ্বৃত্ত মাল কেবল মাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে অভাবগ্রস্ত
লােকদের প্রদান করে।
عن أبي عقبة بن عامر قال قال رسول الله إن الصدقة التطفئ عن أهلها
حر القبور وإنما ي ظل المؤمن يوم القيامة في ظل صدقي
ওকবা ইবনু আমির (রাঃ) বলেন, রাসূল বলেছেন, “নিশ্চয়ই ছাদাকা কবরের
গরম শাস্তিকে ছাদাকাকারীর উপর থেকে নিভিয়ে দেয়। নিশ্চয়ই মুমিন কিয়ামতের দিন
তার ছাদাকার ছায়াতলে থাকবে’ (সিলসিলা ছহীহা হা/১৮১৬)। অসহায় মানুষকে নেকীর
আশায় দান করা মুমিন নর-নারীর আদর্শ।
অষ্টম আদর্শঃ ছিয়াম পালনকারী পুরুষ ও স্ত্রীলােক। আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী
যেসব নারী-পুরুষ ছিয়াম পালন করবে তাদের তাক্বওয়া বৃদ্ধি হবে এবং ধৈর্য বেশি
হবে। ছিয়াম জান্নাত লাভের বড় মাধ্যম, যার প্রতিদান আল্লাহ্ তা'আলা নিজ হাতে
দিবেন।
عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال سمعت النبي ، يقول من صام
يوما في سبيل الله بعد الله وجهه عن النار سبعين خريفا۔
আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, রাসূল বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর ওয়াস্তে
| একটি ছিয়াম পালন করবে আল্লাহ্ তার মুখমণ্ডলকে জাহান্নামের আগুন থেকে সত্তর
বছরের পথ দূরে করে দিবেন' (বুখারী হা/২৮৪০, মুসলিম, মিশকাত হা/২০৫৩, বাংলা মিশকাত
হা/১৯৫০)।
عن سهل بن سعد رضي الله عنه عن الأبي ، قال في الجنة ثمانية
أبواب فيها باب يسمى الريان لا يدخله إلا الصامون۔
সাহল ইবনু সা'দ (রাঃ) বলেন, রাসূল বলেছেন, জান্নাতের আটটি দরজা
রয়েছে তন্মধ্যে একটি দরজার নাম হচ্ছে রাইয়্যান। ছিয়াম পালনকারী ব্যতীত ঐ দরজা
দিয়ে আর কেউ প্রবেশ করতে পারবে না' (বুখারী হা/৩২৫৭, মুসলিম, মিশকাত হা/১৯৫৭, বাংলা
মিশকাত হা/১৮৬১)।
যেসব নারী-পুরুষ আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী ধৈর্যধারণ করে ও পরহেযগারিতা
অবলম্বন করে ছিয়াম পালন করবে, আল্লাহ তাদেরকে ইচ্ছানুযায়ী জান্নাতে প্রবেশের
সুযােগ দিবেন। আর এটা আদর্শ নারী-পুরুষের পক্ষেই সম্ভব।
নবম আদর্শঃ লজ্জাস্থানের হেফাযতকারী পুরুষ ও স্ত্রীলােক। আল্লাহ্ এখানে এমন
নারী-পুরুষের কথা বলেছেন, যারা নিজেদের লজ্জাস্থান অন্য লােকদের সামনে প্রকাশ
করে না। একে অশ্লীল কাজ মনে করে তারা লজ্জাস্থানকে হারাম পথে ব্যবহার করে না।
শরীরের ঢেকে রাখার যােগ্য অঙ্গগুলিকে অন্য পুরুষ ও স্ত্রীর সামনে প্রকাশ করে না।
عن سهل بن سعبر عن رسول الله ع قال من يضمن لي ما بين
الحييه وما بين رجليه أضمن له الجنة
সাহল ইবনু সা'দ (রাঃ) বলেন, রাসূল বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার কাছে এই
অঙ্গীকার করবে যে, সে তার দুই চোয়ালের মধ্যস্থিত বস্তুর (জিহ্বার) এবং তার দুই
পায়ের মধ্যস্থিত বস্তুর (লজ্জাস্থানের) যিম্মাদার হবে, তবে আমি তার জন্য জান্নাতের
যিম্মাদার হব’ (বুখারী হা/৬৪৭৪, মিশকাত হা/৪৮১২, বাংলা মিশকাত হা/৪৬০১)।
এখানে জিহ্বা ও লজ্জাস্থানের প্রতি কঠিন সতর্ক করা হয়েছে। কারণ এই দুই অঙ্গ
দ্বারা অধিকাংশ কবীরা গুনাহ সংঘটিত হয়। আর যে নারী-পুরুষ কবীরা গুনাহে লিপ্ত না
হয় তার জন্য জান্নাতে প্রবেশ করতে কোন বাধা থাকে না।
عن أبي هريرة قال سئل رسول الله ع عن أكثر ما يدخل اللاس
الجنة فقال تقوى البر ومحسن الخلق ويل عن أكثر ما يدخل الناس الار
فقال الفم والفرج
আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূল ৫ কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, কোন জিনিস
মানুষকে বেশি বেশি জান্নাতে প্রবেশ করায়? রাসূল বললেন, “তা হচ্ছে আল্লাহর ভয়-
ভীতি ও উত্তম চরিত্র। আর জিজ্ঞেস করা হয়েছিল কোন জিনিস মানুষকে সবচেয়ে
বেশি জাহান্নামে প্রবেশ করায়? রাসূল বললেন, মানুষের মুখ ও লজ্জাস্থান’ (তিরমিযী
হা/২০০৪, ইবনু মাজাহ হা/৪২৪৬, মিশকাত হা/৪৮৩২ বাংলা মিশকাত হা/৪৬২১, সিলসিলা ছহীহা হা/৯৭৭)।
একমাত্র আদর্শ নারী-পুরুষ এই গুণের অধিকারী হতে পারে


 অত্র আয়াতে তিনটি বিষয়কে স্পষ্টভাবে পেশ করা হয়েছে। প্রথমতঃ আদর্শবান
নারী-পুরুষ রাসূল ৫ এর যাবতীয় মীমাংসায় সন্তুষ্ট থাকবে, আর যারা এমন নয় তারা
থাকবে না।
দ্বিতীয়তঃ কোন সময় কোন বিষয়ে পারস্পরিক মতবিরােধ দেখা দিলে বিবাদ
পরিহার করে উভয় পক্ষকে রাসূল g এর কাছে এবং তার অবর্তমানে কুরআন ও ছহীহ
হাদীছের আশ্রয় নিয়ে মীমাংসা পথ অন্বেষণ করা প্রতিটি আদর্শবান মুসলিম নর-নারীর
প্রতি ফরয।
তৃতীয়তঃ যে বিষয়টি নবী ৫ এর কথা বা কাজের মাধ্যমে প্রমাণিত তা সম্পাদন
করতে গিয়ে মনে কোন রকম সংকীর্ণতা অনুভব করাও আদর্শহীন নারী-পুরুষের লক্ষণ।
عن جابر أن عمر بن الخطاب أني رسول الله ع... فقال
رسول الله ع والذي نفس محممي يدير لو بدا لكم موسی فاتبعتموه
وتركتموني لضللتم عن سواء السبيل ولو گان حيا وأذرك بوتي
الأتبعني
জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একদা ওমর (রাঃ) আল্লাহর রাসূল ৫-এর নিকট
আসলেন ... রাসূল ৫ বললেন, যার হাতে আমার জীবন রয়েছে তার কসম! এ সময়
যদি তােমাদের কাছে মূসা (আঃ) প্রকাশ হন আর তােমরা আমাকে ছেড়ে তাঁর অনুসরণ
কর, তাহলে তােমরা নিশ্চয়ই সরল পথ ছেড়ে ভ্রান্ত পথে চলে যাবে। এমনকি তিনি
যদি এখন জীবিত থাকতেন আর আমার নবুয়াতের যামানা পেতেন তাহলে তিনিও
নিশ্চয়ই আমার অনুসরণ করতেন’ (দারেমী মুকাদ্দামা ৪৩৬, মিশকাত হা/১৯৪)।
অন্য বর্ণনায় আছে,
الو گان موسی ع حا ما وسيعه إلا إتباعی
মূসা (আঃ) ও যদি বেঁচে থাকতেন, তাহলে তাঁর পক্ষেও আমার অনুসরণ ছাড়া
| গত্যন্তর থাকত না' (আহমাদ হা/১৪৬২৩, মিশকাত হা/১৬৮, হাদীছ ছহীহ)।
উক্ত হাদীছ সমূহ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, নবী এর শরী'আত ব্যতীত অন্য কোন
শরীআত আদৌ মানা যাবে না। পীর, ওয়ালী, গাউছ, কতুব, মাযহাব ইত্যাদি মানাতাে
عن أبي هريرة قال كان رسول الله ع يسير في طريق مكة فم
على جبل يقال له جان فقال سيروا هذا جمدان سبق المرون
قالوا وما المقرئون يا رسول اللي قال الداكرون الله كثيرا |
والاكرات۔
আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, একবার রাসুল ৫ সফরে মক্কার পথে এক পাহাড়ের
কাছে পৌছলেন, যার নাম হ'ল জুমদান। তখন বললেন, “চলাে, চলাে এই হচ্ছে
জুমদান পাহাড়। যারা মুফাররিদ তারা আগে চলে গেল। ছাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন,
হে আল্লাহর রাসূল! মুফাররিদ কারা? তিনি বললেন, যেসব নারী-পুরুষ আল্লাহর বেশি
বেশি যিকির করে' (মুসলিম ৪৮৩৪, মিশকাত হা/২২৬২, বাংলা মিশকাত হা/২১৫৫)।
অন্য বর্ণনায় রাসূল বলেন, আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, আমি আমার বান্দার
কাছে থাকি যখন সে আমার যিকির করে এবং আমার জন্যই তার ঠোট নড়ে' (বুখারী,
মিশকাত হা/২১৭৭)। সব সময় যিকির করা আদর্শ নারী-পুরুষের কাজ।
একাদশ আদর্শঃ কোন ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার স্ত্রীলােকের জন্য আল্লাহ ও
তাঁর রাসূল ৫ যখন কোন বিষয়ে চূড়ান্তভাবে ফায়ছালা করে দেন, তখন সে ব্যাপারে
স্বাধীন ইচ্ছা প্রয়ােগ করার কোন অধিকার থাকে না। এখানে আল্লাহ্ তা'আলা এমন
আদর্শবান নারী-পুরুষের কথা বলেছেন যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ফায়ছালাকে
চূড়ান্ত ফায়ছালা হিসাবে নিঃস্বার্থভাবে পরম আনুগত্যের সাথে মেনে নেয় এবং তাঁদের
ফায়ছালা ব্যতীত অন্যান্য ফায়ছালাকে চূড়ান্ত ভুল বলে মনে করে। আল্লাহ্ তা'আলা
বলেন,
{فلا وربك لا يؤمنون حتى يحكموك فيما شجر بينهم ثم لا يجدوا
في أنفسهم حرجا مما قضيت ويسلموا تسليما
‘অতঃপর আপনার পালনকর্তার কসম! সে লােক ঈমানদার হতে পারে না,
যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সংঘটিত বিবাদের ব্যাপারে আপনাকে ন্যায়বিচারক বলে মেনে
না নিবে এবং আপনার মীমাংসার ব্যাপারে তাদের মনে কোন সংকীর্ণতা থাকবে না ও
তা স্বেচ্ছায় গ্রহণ করে নিবে’ (নেসা ৬৫)।
দশম আদর্শঃ আল্লাহকে অধিক মাত্রায় স্মরণকারী পুরুষ ও স্ত্রীলােক। এখানে
আল্লাহ তা'আলা এমন আদর্শবান নারী-পুরুষের কথা বলেছেন, যারা আল্লাহকে
কস্মিনকালেও এবং মুহূর্তের তরেও ভুলে যায় না। আর মুখ ও অন্তর উভয় ক্ষেত্রেই
সর্বদা আল্লাহকে স্মরণ করে। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন,
{واذكر ربك كثيرا وسبح بالعشي والإنگار}
আর আপনি আপনার প্রতি পালককে বেশি বেশি স্মরণ করুন এবং সকাল-
সন্ধ্যায় তাসবীহ পাঠ করুন’ (আলে ইমরান ৪১)।
আল্লাহ্ তা'আলা অন্যত্র বলেন,
{يا أيها الذين آمنوا اذكروا الله ذكرا كثيرا}
“হে ঈমানদারগণ! তােমরা আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ কর' (আহযাব ৪১)।
عن عاﺉشة قالت گان البئ ع يذكر الله على كل أحياڼه
আয়েশা (রাঃ) বলেন, নবী সবসময় আল্লাহকে স্মরণ করতেন (সিলসিলা ছহীহা
হা/৪০৬)।
অত্র হাদীছ দ্বারা বুঝা যায় যে, মানুষের কর্তব্য হচ্ছে সবসময় আল্লাহকে স্মরণ
করা। আল্লাহকে স্মরণ করা আদর্শ নারী-পুরুষের পরিচয়।
عن أبي هريرة وأبي سعيد الخدري أنهما شهدا على النبي ع أنه قال
لا يقعد قوم يذكرون الله عز وجل إلا حثهم الملايكة وغشيتهم الرحمة
ونزلت عليهم السيئة وذگرهم الله فيمن عنده
আবু হুরায়রা ও আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, রাসূল বলেছেন, 'যখন কোন
মানুষ আল্লাহর যিকির করতে বসে তখন আল্লাহর ফেরেশতাগণ তাদেরকে ঘিরে নেন,
তাঁর রহমত তাদেরকে ঢেকে ফেলে এবং তাদের উপর শান্তি বর্ষিত হয়। আল্লাহ
তা'আলা তাঁর পাশের ফেরেশতাগণের সামনে তাদের প্রশংসামূলক আলােচনা করেন
(মুসলিম হা/৪৮৬৮, মিশকাত হা/২২৬১, বাংলা মিশকাত হা/২১৫৪)।
বহু দূরের কথা। এখন যদি মুসা (আঃ) জীবিত হন আর মানুষ যদি তাঁর অনুসরণ করে
তবুও পথভ্রষ্ট হবে। আদর্শ নারী-পুরুষ এমন কাজ করতে পারে না।
দ্বাদশ আদর্শঃ যদি কোন নারী কিংবা পুরুষ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী
করে তবে সে সুস্পষ্ট গােমরাহীর মধ্যে নিমজ্জিত। এখন আল্লাহ তা'আলা তাঁর
আদর্শবান বান্দা-বান্দীকে তাঁর নাফরমানী না করার ব্যাপারে কঠোরভাবে সতর্ক
করেছেন। কারণ যারা আল্লাহ ও তার রাসূলের আদর্শ মানবে না তাদের আশ্রয়স্থল
জাহান্নাম। আল্লাহর সাথে শিরক করা সবচেয়ে বড় নাফরমানী, যার পরিণাম ভয়াবহ
(মায়েদা ৭২)।
নবী প্রদত্ত নিয়মে ইবাদত না করা সবচেয়ে বড় নাফরমানী, যার পরিণাম
জাহান্নাম (নাসাঈ, মিশকাত হা/১৪০, টীকা নং ... পৃঃ ৫১)। আল্লাহ্ তা'আলা আদর্শবান নারী-
পুরুষকে এ ধরনের নাফরমানী হতে রক্ষা করেন। আদর্শবান নারী-পুরুষ আল্লাহ ও
তাঁর রাসূলের নাফরমানী থেকে বিরত থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করেন।



আরো পড়ুন=>

Subscribe to receive free email updates:

0 Response to "আদর্শ পরিবার"

Post a Comment