বিয়ের পূর্বে কনে দেখা
বই আদর্শ পরিবার
আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ
শিরোনাম
বিয়ের পূর্বে কনে দেখা
দাম্পত্য জীবনে মিলমিশ, প্রেম-ভালবাসা ও সতীত্ব রক্ষার উদ্দেশ্যে এবং পার্থিব
জীবনে সুখ-শান্তি, সমৃদ্ধির জন্য বিয়ের পূর্বে কনেকে দেখে নেয়া উচিত। সভ্যতা ও
শালীনতা সহকারে বিয়ের পূর্বে কনেকে দেখে নিলে স্ত্রী সম্পর্কে মনের খুঁত খুঁতে ভাব ও
সন্দেহ দূর হয়ে যাবে, থাকবে না কোন দ্বিধা-দ্বন্দ্বের অবকাশ। শুধু তাই নয়, এর ফলে
স্ত্রীর প্রতি আকর্ষণ জাগবে এবং সেই স্ত্রীকে পেয়ে সে সুখী হতে পারবে। এ মর্মে
আল্লাহ তা'আলা বলেন, নারীদের মধ্য হতে তােমরা তােমাদের পসন্দ মত বিয়ে কর
(নিসা ৩)। অত্র আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বিয়ের পূর্বে মেয়ে দেখার প্রতি ইঙ্গিত
করেছেন। কারণ দেখা ছাড়া পসন্দের কথা বিবেচনা করা যায় না।
عن أبي هريرة قال كنت عند البيع فأتاه رجل فأخبره أنه تزوج
امرأة من الأنصار فقال له رسول الل ع فانظر إليها فإن في أعين
الأنصار شيئا
امرأة من الأنصار فقال له رسول الل ع فانظر إليها فإن في أعين
الأنصار شيئا
আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, একজন লােক নবী ৫ -এর নিকট এসে বলল, সে
আনছারীদের একটি মেয়েকে বিয়ে করার ইচ্ছা করেছে। রাসূল ৫ বললেন, 'তাকে
প্রথমে দেখে নাও। কেননা আনছারীদের কোন কোন লােকের চোখে দোষ থাকে
(মুসলিম, মিশকাত হা/৩০৯৮, বাংলা মিশকাত হা/২৯৬৪, ‘বিয়ে’ অধ্যায়, পাত্রী দেখা’ অনুচ্ছেদ)।
আনছারীদের একটি মেয়েকে বিয়ে করার ইচ্ছা করেছে। রাসূল ৫ বললেন, 'তাকে
প্রথমে দেখে নাও। কেননা আনছারীদের কোন কোন লােকের চোখে দোষ থাকে
(মুসলিম, মিশকাত হা/৩০৯৮, বাংলা মিশকাত হা/২৯৬৪, ‘বিয়ে’ অধ্যায়, পাত্রী দেখা’ অনুচ্ছেদ)।
অত্র হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, বিয়ের পূর্বে পাত্রী দেখে নেয়া ভাল। আরাে
প্রতীয়মান হয় যে, পাত্রের মঙ্গলের খাতিরে পাত্রীর কোন দোষ বলা যায়।
প্রতীয়মান হয় যে, পাত্রের মঙ্গলের খাতিরে পাত্রীর কোন দোষ বলা যায়।
عن جابر بن عبد اللقال قال رسول الله ع إذا خطب أحكم المرأة
فإن استطاع أن ينظر إلى ما يدعوه إلى نگاها فليفعل
فإن استطاع أن ينظر إلى ما يدعوه إلى نگاها فليفعل
জাবির (রাঃ) বলেন, রাসূল বলেছেন, 'যখন তােমাদের কেউ কোন নারীকে
বিয়ের প্রস্তাব দেয়, তখন যদি তার পক্ষে তার এমন কোন অঙ্গ দেখা সম্ভবপর হয় যা
তাকে বিয়ের দিকে ডাকে, তখন সে যেন তা দেখে’ (আবু দাউদ, মিশকাত হা/৩১০৬, বাংলা
মিশকাত হা/২৯৭২)।
বিয়ের প্রস্তাব দেয়, তখন যদি তার পক্ষে তার এমন কোন অঙ্গ দেখা সম্ভবপর হয় যা
তাকে বিয়ের দিকে ডাকে, তখন সে যেন তা দেখে’ (আবু দাউদ, মিশকাত হা/৩১০৬, বাংলা
মিশকাত হা/২৯৭২)।
অত্র হাদীছ দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, বিয়ের আগে মেয়ে দেখা উচিত। বিয়ের পূর্বে
মেয়ে দেখলে ছেলে বিয়ের প্রতি আগ্রহী হয়।
মেয়ে দেখলে ছেলে বিয়ের প্রতি আগ্রহী হয়।
عن المغيرة بن شعبة قال خطبت امرأة فقال لي رسول اللع
أنظرت إليها قلت لا قال فانظر إليها فإنه أحرى أن يؤدم بينكما
أنظرت إليها قلت لا قال فانظر إليها فإنه أحرى أن يؤدم بينكما
মুগীরা ইবনু শু’বা (রাঃ) বলেন, আমি একটি মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিলাম ।
রাসূল ¢ আমাকে বললেন, “তুমি কি তাকে দেখেছ? আমি বললাম, না। তিনি বললেন,
তাকে দেখে নাও। কারণ এই দর্শন তােমাদের মধ্যে প্রেম-ভালবাসা সঞ্চার করবে।
(আহমাদ, তিরমিযী, নাসাঈ, দারেমী, মিশকাত হা/৩১০৭, বাংলা মিশকাত হা/২৯৭৩)।
রাসূল ¢ আমাকে বললেন, “তুমি কি তাকে দেখেছ? আমি বললাম, না। তিনি বললেন,
তাকে দেখে নাও। কারণ এই দর্শন তােমাদের মধ্যে প্রেম-ভালবাসা সঞ্চার করবে।
(আহমাদ, তিরমিযী, নাসাঈ, দারেমী, মিশকাত হা/৩১০৭, বাংলা মিশকাত হা/২৯৭৩)।
অত্র হাদীছ দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, বিয়ের পূর্বে মেয়ে দেখলে উভয়ের মধ্যে
প্রেম-প্রীতি ও ভালবাসা সৃষ্টি হয়। উল্লেখ্য যে, এ পর্যায়ের হাদীছসমূহ শুধু দেখার
অনুমতি অকাট্য ও স্পষ্টভাবে দেয় বটে, কিন্তু তার কোন পরিমাণ, মাত্রা বা সীমা
নির্দেশ করে না। তবে কনে সম্পর্কে সম্যক ধারণা করা এবং বিয়ে করা না করা সম্পর্কে
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হয় যতখানি এবং যেভাবে দেখলে, ততখানি এবং সেভাবে
দেখা অবশ্যই জায়েয হবে। আর এর পরিমাণ হতে পারে, মুখমণ্ডল, হস্তদ্বয় ও পায়ের
পাতা, এর চেয়ে বেশী নয়। কারণ মুখমণ্ডল দেখলেই মেয়ের রূপ সৌন্দর্য সম্পর্কে স্পষ্ট
ধারণা লাভ সম্ভব। আর হস্তদ্বয় দেখলেই শরীরের গঠন আকৃতি বুঝা সম্ভব এবং পায়ের
পাতা চলার গতি বুঝিয়ে দেয়।
প্রেম-প্রীতি ও ভালবাসা সৃষ্টি হয়। উল্লেখ্য যে, এ পর্যায়ের হাদীছসমূহ শুধু দেখার
অনুমতি অকাট্য ও স্পষ্টভাবে দেয় বটে, কিন্তু তার কোন পরিমাণ, মাত্রা বা সীমা
নির্দেশ করে না। তবে কনে সম্পর্কে সম্যক ধারণা করা এবং বিয়ে করা না করা সম্পর্কে
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হয় যতখানি এবং যেভাবে দেখলে, ততখানি এবং সেভাবে
দেখা অবশ্যই জায়েয হবে। আর এর পরিমাণ হতে পারে, মুখমণ্ডল, হস্তদ্বয় ও পায়ের
পাতা, এর চেয়ে বেশী নয়। কারণ মুখমণ্ডল দেখলেই মেয়ের রূপ সৌন্দর্য সম্পর্কে স্পষ্ট
ধারণা লাভ সম্ভব। আর হস্তদ্বয় দেখলেই শরীরের গঠন আকৃতি বুঝা সম্ভব এবং পায়ের
পাতা চলার গতি বুঝিয়ে দেয়।

0 Response to "বিয়ের পূর্বে কনে দেখা "
Post a Comment